রামদা দিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে না পেরে ওসি’র বিরুদ্ধে চাঁদা ও নির্যাতনের মামলা যুবলীগ কর্মীর

Date:

Share post:

কে. এম. সাখাওয়াত হোসেন : রামদা দিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে না পেরে দুর্গাপুর থানার সাবেক ওসি’র বিরুদ্ধে চাঁদা ও নির্যাতনের অভিযোগে নেত্রকোনার দ্রুত বিচার আদালতে মামলা করেছেন এক যুবলীগ কর্মী। মামলার বাদী বাকলজোড়া ইউনিয়নের গুজিরকোনা গ্রামের মৃত আলাল তালুকদারের ছেলে এবং ওই ইউনিয়নের যুবলীগ কর্মী আলম তালূকদার। মামলাটি আমলে নিয়ে নেত্রকোনা পুলিশ সুপারকে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবি নাসির উদ্দিন মাহবুব পুর্বময়কে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিজ্ঞ আদালত বাদীর জবানবন্দী নিয়েছেন এবং আদালত পুলিশ সুপারকে তদন্ত করানোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

ঘটনার এক মাস সাতদিন পর দায়ের করা মামলায় দুর্গাপুর থানায় সাবেক কর্মরত তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত তিনজন হলেন, ওসি মো. মিজানুর রহমান, উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হালিম ও কনেষ্টবল জুয়েল রানা।

জানা জানা যায়, ১০ আগস্ট দুর্গাপুর উপজেলার ধানশিরা গ্রামের কাইয়ুম আহমেদের পরিবারের অভিযোগে রাত সাড়ে ৭টার দিকে পৌর শহরের মাছমহাল ইয়াকুব তালুকদারের বাসা থেকে কাইয়ুমকে উদ্ধার করে পুলিশ। তখন সেখান থেকে আলম তালুকদারসহ কয়েকজনকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

গত ১৪ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনের শেষে ‘ঘটনার রাতে কাইয়ুমকে উদ্ধারের সময় কাকে কাকে থানায় আনা হয়েছিল ও পরে কি ঘটনা ঘটেছিল’ পূর্বময়ের এমন প্রশ্নে সেদিন কাইয়ুম বলেছিলেন, আমাকে উদ্ধার করে আলম তালুকদারসহ ইমন ও আকাশকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। ওসি মিজান জানতে চাইলে ঘটনা খুলে বলি। পরে আলম তালুকদারকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে লুঙ্গি পড়ে আমি নাকি রামদা নিয়ে আকাশকে মারতে এসেছিলাম। ওসি সিসি টিভির ফুটেজে দেখে ওই সময় আমার পরনে প্যান্ট ও কফি কালারের গেঞ্জি ছিল। এ নিয়ে ওসি আলমকে ধমকি দিয়ে মার দেয়ার ভয় দেখালে আলম তালুকদার ঘটনা খুলে বলে, আমাকে মেরে রামদা দিয়ে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। মারপিটের সময় পড়নে কফি কালারের গেঞ্জি ছিড়ে গেলে আমাকে আকাশের গেঞ্জি পরায়। আমার কফি কালারের ছেড়া গেঞ্জিটি থানায় আছে।

ওই রাতেই বাদী হয়ে আলম তালুকদার, আকাশ তালুকদারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন কাইয়ুম জানিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ওসির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আদালতে দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার মাছমহাল থেকে এসআই হালিম ও কনস্টেবল জুয়েল মামলার বাদী বালু ব্যবসায়ী আলম তালুকদারকে ধরে ওসি মিজানুর রহমানের কক্ষে নিয়ে আসে। ওসি মিজান তার কাছে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাত দেড়টার দিকে রোল দিয়ে হাতে, পায়ে, উরুতে, পিঠে আঘাত করে। একপর্যায়ে দেয়ালে ধাক্কা দিলে আলম তালুকদার মাথায় আঘাত পান। তাকে রাত দেড়টার দিকে দুর্গাপুর হাসপাতাল প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ময়মসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সারাদিন চিকিৎসা শেষে ১১ আগস্ট রাতে এসআই হালিম কয়েকটি কাগজে আলমের স্বাক্ষর নিয়ে আদালতে চালান করেন। রাতে জামিনে আলম তালুকদার মুক্ত হন ।

এ বিষয়ে গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আলম তালুকদারর কাছে দ্রুত বিচার আদালতের মামলা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কথা না বলে তার ভগ্নিপতি স্টালিনকে ফোন ধরিয়ে দেন।

পরে ‘কাইয়ুম আহমেদ গত আগস্টে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন আলম তালুকদার ধস্তাধস্তিতে পাকা রাস্তায় পড়ে মাথায় আঘাত পায়’ এ প্রশ্নে আলম তালুকদারের ভগ্নিপতি পরিচয়দানকারী স্টালিন বলেন, ধস্তাধস্তির কোন প্রশ্ন নাই-তো, এখানে ওসি ও কাইয়ুমেরও কোন সম্পর্ক নাই। গত ১১ আগস্টের কয়েকটি প্রশ্নে উত্তর আলম তালুকদারের ভগ্নিপতি বলেন, ফজরের আযানের সময় আলমকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে ওই দিন ওরা (মামলার আসামীরা) দুর্গাপুরে নিয়ে আসছে সন্ধ্যার দিকে।

‘গত ১১ আগস্ট আলমের জামিন কি আদালতে দিয়েছিল’ পূর্বময়ের এ প্রশ্নে স্টালিন বলেন, দুর্গাপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিন হয়েছে। ‘রাতে কি আদালত বসে’ এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আদালত তারা (আসামিরা) বসিয়েছে। স্পেশাল কোর্ট করিয়েছে। কোর্টের ব্যবস্থা তারাই করিয়েছে। গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এ সকল  প্রশ্নের উত্তর আলম তালুকদারের ভগ্নিপতি স্টালিন পূর্বময়কে দিয়েছেন।

গত ১১ আগস্ট আলম তালুকদারের জামিনের ব্যাপারে তার পক্ষের আইনজীবি মানশ চন্দ্র সাহার কাছে জামিনের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) পূর্বময়কে বলেন, ওইদিন স্পেশাল কোর্ট বসিয়ে আলমের জামিন হয়নি। বন্ধের দিন ব্যতিত স্পেশাল কোর্ট বসানো যায় না। আদালত চলাকালীন সময়েই জামিন হয়েছে। সঠিক সময়টা এ মুহুর্তে মনে নেই। তবে ওইদিন বিকেল ২টা থেকে ৪টা মধ্যে যে কোন এক সময় আমার মক্কেল আলমের জামিন হয়েছে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার সাবেক ওসি মো. মিজানুর রহমানের ব্যক্তিগত মোবাইলে যোগাযোগ চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেয়া যায়নি। তবে তিনি বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে ।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নেত্রকোনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসীর কাছে মামলাটি অবগতির বিষয়ে জানাতে চাইলে তিনি পুর্বময়কে বলেন, আদালত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদ মর্যাদা বা এর উপরের ব্যক্তিকে দিয়ে তদন্ত করানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

Related articles

ভালুকায় কাভার্ডভ্যান উল্টে ২জন নিহত

কাভার্ড ভ্যান উল্টে নিহত, ভালুকা, ময়মনসিংহ

ভালুকায় পিকাপ গাড়ীসহ চোর চক্রের ৫ সদস্য আটক 

আফরোজা আক্তার জবা, ভালুকা প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ভালুকায় ২টি চোরাই পিকাপ গাড়ীসহ চক্রের ৫ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।...

ভালুকায় ধান ক্ষেত থেকে গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার

আফরোজা আক্তার জবা ভালুকা প্রতিনিধিঃময়মনসিংহের ভালুকায় হাজেরা খাতুন(৩৫) নামে এক গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে ভালুকা মডেল থানা...

ভালুকায় পথচারীদের মাঝে পানি ও স্যালাইন বিতরণ

আফরোজা আক্তার জবা, ভালুকা প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ভালুকায় প্রচন্ড তাপদাহে মানুষের তৃষ্ণা মেটাতে পথচারীদের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার...